Friday, March 27, 2020

লাল চা এর গুজবঃ ভালো থাকো বাংলাদেশ


মো. আব্দুল্লাহ

চা পাতা দাও আর না দাও আদা, রসুন, তেজপাতা, এলাচি দিয়ে চা বানাতে হবে। আর খাইলেই করোনা শেষ। এটা  আমার তালতো ভাইয়ের মামাতো বোনের খালাত ভাইয়ের ফুফা শাশুড়ির ননদের জালের ঘরে রাতে এক মেয়ে হয়েই দাঁড়িয়ে এ কথা বলেই মারা গেছে। এইমাত্র জম্ম নেওয়া শিশু কি এমনি বলতে পারে? নিশ্চয়ই সে কোনো পীর হবে। ব্যস চা খাওয়া শুরু। 

ওমা ঘুমাতে যাব আরেকজন ফোন দিয়ে বলল জনাব চারদিকে আযান হচ্ছে। কেন ঘন্টা তিনেক আগেতো এশার নামাজ পড়লাম। এখন আবার কোন ওয়াক্তের আযান? জনাব বিশ্বাস করছেননা এই শুনেন আমাদের এলাকার সব মসজিদে মুয়াজ্জিনরা আযান দিচ্ছেন। কার স্বপ্নে পাওয়া  বিধি সবাই একসাথে আযান দিলে নাকি করোনা দুর হয়ে যাবে।

একজন ফোন দিয়ে এক মুয়াজ্জিনকে বলছে আর উনি নিজ দায়িত্বে বাকি সবাইকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন। ব্যস আযান শুরু। 

গত অক্টোবরে একটি কাফেলা নিয়ে ওমরাহ করতে গিয়েছিলাম। ওমরাহ শেষে একজন হাজী বায়না ধরলেন হাজরে আসওয়াদে চুমু দিবেন। তার চাপাচাপিতে পরেরদিন তাকে নিয়ে চুমু খাওয়ালাম। চুমু পরে তিনি আমাকে বললেন তার বুকে ব্যাথা হচ্ছে। আমি তাকে ধরে মাতাফের এক পাশে শুয়ে দিলাম। পুলিশ আমাদের দেখে জানতে চাইল কী হয়েছে? আমি তাকে ঘটনা বললে সে মুহুর্তে ডাক্তার কল করল আর আমাকে বলল রুগির গায়ে হাত না দেয়ার জন্য। মিনিট পাঁচ এর  মধ্যে ডাক্তার আসল। কিন্তু এর মধ্যে তাওয়াফরত বিশ বাইশজন বাঙ্গালি আমাকে জিঙ্গাসা করলেন আমি বাঙ্গালি কি না এবং নানানজন নানান রকম ডাক্তারি পরামর্শ দিলেন। 

মনে মনে বললাম হায়রে আমাদের দেশে এত ডাক্তার। এখন ফেসবুক খুললেই দেখা যায় আস্তিক-নাস্তিক, আবাল- বণিতা, ছোট আলিম- বড় আলিম সবাই নিজ উদ্যোগে যার যার মত করে করোনা বিষয়ে পরামর্শ ও বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন।
কিছু দিন আগে আমাদের পরিবহন সার্ভিসে দেখা গেল প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো এক্সিডেন্ট  হচ্ছে। কিন্তু চিন্তা করে পাইনা কেন এক্সিডেন্ট হচ্ছে। পরে খোঁজ  নিয়ে জানা গেল সমসাময়িক সময়ে কিছু নতুন ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাদের পুর্বে বড় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নেই যার ফলে এই এক্সিডেন্ট।

আমাদের হয়েছে তা-ই। যে যে পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু লোক  বিশ্বাস করে তাই খাচ্ছে বা আমল করছে। এখন করোনা বেচারার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।  না জানি কে কি খেয়ে মারা যায় আর লোকেরা তার উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। তাই করোনা এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা করছে। তবু ভালো থাকুক বাংলাদেশ। 

আমি বলব যারা পরামর্শ দিচ্ছেন বা বয়ান করছেন সবাই এগুলো ছেড়ে করোনা অভিজ্ঞদের  পরামর্শ  নিয়ে নিজেরা ভালো থাকি অপরকে ভাল থাকতে দেই। পিঁয়াজ এর  দাম যখন বাড়লো তখন দেখা গেল যে ঘরে আগে ত্রিশ কেজি পিঁয়াজ  লাগত সেই ঘরে তখন তিন কেজি পিঁয়াজে সারা মাস চলে যায়। অপচয় রোধ হলো টাকাও সেইভ হলো। ফেসবুক যদি বিনামুল্যে লাইভে আসা বন্ধ করে দিত তবে হয়ত বাঙ্গলি গুজব ও আজগুবি পরামর্শ  থেকে বাঁচতে  পারত। ভালো থাকো বাংলাদেশ।

লেখকঃ ভাইস প্রিন্সিপাল, সিলেট আইডিয়েল মাদরাসা।   

শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here