Monday, March 23, 2020

চোখ বন্ধ করলেই প্রলয় বন্ধ হয়ে যায় নাঃ প্রসঙ্গ করোনা


ডাঃ কাজী মাঈনুল ইসলাম মাহফুজ।

মানুষ তখনই স্বস্তিতে থাকে যখন দেখে তাদের অভিভাবক তথা নীতিনির্ধারকরা সময়োচিত, কার্যকরী এবং যুগপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
অথচ আমরা দেদারসে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে মানুষ আসতে দিয়েছি বা দিচ্ছি। তাদেরকে হোম কোয়ারান্টাইন এর নামে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দিয়েছি। আর বলছি, প্লিজ প্যানিক হবেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে সন্দেহ হলেই টেস্ট। আর আমরা মৃত্যু পথযাত্রীকেও টেস্ট এর আওতায় আনতে পারছিনা। অথচ বলছি আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

সত্যিকারের এক্সপার্টরা বলছেন ধাপে ধাপে নয় বরং বিভীষিকাময় পরিস্থিতি এড়াতে হলে এখনই টোটাল লক্ডাউনে যেতে হবে আর আমরা অপেক্ষা করছি কবে কখন মৃত্যুর মিছিল শুরু হবে। লাশের গন্ধে দূর্বিষহ হবে আমাদের  মাতৃভুমি।

লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়, যখন দেখি এই জাতির সূর্য সন্তানরা  নিজের পকেটের পয়সায় নিজের সুরক্ষার জন্য পোষাক বানাচ্ছেন আর একজন অসহায় হাসপাতাল পরিচালক দুঃখ প্রকাশ করছেন যে, সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারনে তার অধিনস্তদের এক টুকরো মাস্ক সরবরাহ তিনি অপারগ। 

জরুরি নির্দেশনা না পাওয়ায় এখনো হসপিটালগুলো ইচ্ছেমতো রুটিন রুগী ভর্তি দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ডাক্তার কিংবা রুগির আত্নীয় স্বজন কেউই "সোশ্যাল ডিস্টেন্স" মেইনটেইন করতে পারছেন না। ফলাফল, করোনার ট্রান্সমিশন আমরা ব্রেক করতে পারছিনা। 

"মজুতদারী করলে কঠোর ব্যাবস্থা", ব্যস! তারপর আর কোনো খবর নাই। ইতমধ্যে বাজার থেকে স্যানিটাইজার, হেক্সিসল উধাও। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মুল্য অচিরেই আকাশ ছোঁবে। ফাঁকা বুলির ও একটা সীমা থাকা উচিত।

বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে আইইডিসিআর ক্ষেত্র৷ বিশেষে পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নিয়ন্ত্রনকারী কতৃপক্ষ নিরুত্তর।  অভিযোগের সত্যতা বরং প্রশ্নবিদ্ধ।

অনেক সময় পেয়েছি আমরা, এখনো সময় আছে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর, নাম মাত্র হাতে গোনা আই সি ইউ বেডের সংখা বাড়ানোর। কিন্ত আমরা কি করছি? লক্ষণীয় কোনো পদক্ষেপই নাই। 

বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা। প্রতি দশ জনের একজনও জানেনা কী কী স্বাস্থ্যবিধি মানা উচিত করোনা প্রতিরোধের জন্য। ফলাফল কয়েক দিনের মধ্যেই "সুপার স্প্রেডার"এ ভরে যাবে প্রিয় স্বদেশ। 

সম্মানিত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দৌরাত্ম্যের কথা আর নাই বা বললাম। "কাড়ি কাড়ি" টাকা দিয়ে যে ঋণের জালে তারা আমাদের আবদ্ধ করেছেন আামাদের "কাড়ি কাড়ি" মুল্যহীন জীবন দিয়েও এই যাত্রায় তাদের ঋণ শোধ হবে কিনা আমি সন্দিহান।

আমাদের মুখ সেলাই করা নয় সত্য। কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারবো না এটাও সত্য। আমরা সরকারি চাকুরীজীবি। আই সি টি আইন আমাদের হৃদয়সুদ্ধ সেলাই করেছে।

মানুষ হিসেবে প্রচন্ড রকমের "আস্তিকতা" আমার মজ্জাগত। সমগ্র অন্তঃকরণ দিয়ে বিশ্বাস করি পরওয়ারদিগার না চাইলে "করোনা" আমাদের কিছুই করতে পারতো না। কিন্ত আতিপাতি করেও এমন কোনো ওসিলা খুঁজে পাইনা যার বরকতে এই নিকষ কালোরাত নাতিদীর্ঘ হবে। ওলামায়েকেরাম আর তাদের দোসরদের কাদা ছোড়াছুড়ি ছাড়া এযাবতকালে আমরা উল্লেখযোগ্য কোন পূণ্য করেছি বলে মনে পড়েনা।

পরিশেষে সেই মহান সত্তার কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করছি যাঁর হাতে আমাদের জীবন ও মরণ, সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, আর একজন চিকিৎসকও যেনো আক্রান্ত না হোন, সন্তানের লাশের ভারে নুয়ে না পড়ুক কোনো পিতার কাঁধ, সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে আপনজনকে ফেলে পালাতে না হোক কাউকেই, সুস্থ থাকুক জাতির জনকের সোনার বাংলা, সুস্থ থাকুন আমাদের মাথার মুকুট, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বজনেরা। 

আর আরেকটা প্রার্থনা করি, কতিপয় বেকুবের নির্বুদ্ধিতার শাস্তি না পাক পুরো জাতি। 

লেখকঃ ডাঃ কাজী মাঈনুল ইসলাম মাহফুজ। 
এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার,  মেডিসিন বিভাগ, 
সিলেট এম. এ. জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,  সিলেট। 


শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here