Sunday, June 21, 2020

ইসলামী উচ্চতর গবেষণায় প্রায়োগিক প্রসঙ্গ : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

 
।। প্রফেসর ড সৈয়দ মাকসুদুর রহমান।।

ভূমিকা :
উচ্চতর গবেষণা তথ্য এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রায়োগিক বিষয় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় সমস্যা, সংক্রামন, সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। মানব সভ্যতার বিকাশ ও আর্থিক উন্নয়ন গবেষণায় প্রাধান্য দেয়া উচিত। ইসলামী এ গবেষণা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে শুধু থিওরি হলে মানবতার কল্যাণ হবে না।

আলোচ্য প্রবন্ধে প্রায়োগিক বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

এমফিল ( MPhil) ও পিএইচডি (PhD )
দর্শন শাস্ত্রে মাস্টার্স একটি উন্নত স্নাতকোত্তর গবেষণা ডিগ্রী। এর পর এমফিল (MPhil) অর্থাৎ মাস্টার্স অব ফিলোসফি এবং পিএইচডি (PhD) এটি ডক্টর অফ ফিলোসফি Doctor of philosophy। এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে উন্নত গবেষণা ডিগ্রী। একটি এম.ফিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে থিসিস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কখনো কখনো এটিকে একটি সিনিয়র বা দ্বিতীয় মাস্টার ডিগ্রী হিসাবে গণ্য করা হয়। এম. ফিল হলো একটি মাস্টার্স এবং একটি পিএইচডির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি উচ্চতর গবেষণা।  এম.ফিল গ্র্যাজুয়েটের অবস্থান হলো তার পূর্বে মাস্টার্স এবং পরে পিএইচডি ডিগ্রি। শিক্ষার্থীদেরকে মূল গবেষণার কয়েক বছর শেষ করার পরে কিন্তু একটি গবেষণায় পরিপূর্ণ রুপ আসে। পিএইচডি করার জন্য এমফিল ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হয়।

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, যে মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার একটা ধারাবাহিক স্তরসমূহ মাত্র ।

ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষা নিয়ম অনুযায়ী এম.ফিল (M.Phil.) হচ্ছে (post-Masters) স্তরের ২ বছর মেয়াদী গবেষণা ভিত্তিক পড়াশোনা।


আর পিএইচডি (PhD) হচ্ছে Doctor of philosophy এটা এম.ফিল, কোর্স সম্পন্ন করার পর করতে হয়।

অন্যদিকে আমেরিকান  নিয়ম অনুযায়ী পিএইচডি করতে চাইলে এম.ফিল, করার কোনো ব্যাবস্থা/প্রয়োজন নেই। ফলে সেখানে পিএইচডি, ৪-৫ বছর মেয়াদী কোর্স। অপরদিকে, ব্রিটিশ পদ্ধতিতে পিএইচডি, ৩ বছর মেয়াদী কোর্স।

এমফিল বলতে সার্বিকভাবে যা কিছু বুঝায় তাহলো-
The Master of Philosophy (MPhil; Latin Magister Philosophiae or Philosophiae Magister) is an advanced postgraduate degree. An MPhil typically includes a taught portion and a significant research portion, during which a thesis project is conducted under supervision. An MPhil may be awarded to postgraduate students after completing taught coursework and one to two years of original research, which may also serve as a provisional enrollment for a PhD programme
অর্থাৎ একটি উন্নত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এম.ফিলের মধ্যে সাধারণত একটি বিষয় ভিত্তিক শেখানো অংশ এবং একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার সময়কালে একটি থিসিস প্রকল্প তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।  একটি এম.ফিল স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমিক কোর্স শেষ করার পরে এবং এক থেকে দুই বছরের মূল গবেষণা শেষ করা যেতে পারে, যা পিএইচডি প্রোগ্রামের অস্থায়ী তালিকাভুক্তি হিসাবেও কাজ করতে পারে

পিএইচডি  আসল রূপ
(PhD original form)
Doctor of Philosophy (PhD, Ph.D., or DPhil; Latin philosophiae doctor or doctor philosophiae) is the highest university degree that is conferred after a course of study by universities in most countries. PhDs are awarded for programs across the whole breadth of academic fields. As an earned research degree, those studying for a PhD are usually required to produce original research that expands the boundaries of knowledge
আসল কথা হলো- দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যয়ন করার পরে প্রদত্ত সর্বোচ্চ ডিগ্রি নাম পিএইচডি। পিএইচডিগুলি একাডেমিক কাউন্সিলর মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

উপার্জিত গবেষণা ডিগ্রি হিসাবে, পিএইচডি করার জন্য যারা অধ্যয়ন করছেন তাদের সাধারণত মূল গবেষণা উৎদপাদন করা প্রয়োজন যা জ্ঞানের সীমানা প্রসারিত করে। মূল তথ্য, সহায়ক তথ্য এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ বিদ্যমান থাকে।


এম.ফিল ও পিএইচডি গবেষকের জন্য আবশ্যক
(Required for MPhil and PhD research)
যিনি এমফিল গবেষণা করতে আগ্রহী তাকে অনার্স এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় একটি নির্দিষ্ট নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন পত্র আহ্বান করলে সে শর্তের আলোকে আবেদন করতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিক যাচাই করতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে থাকে। ভর্তি পরীক্ষায উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী অফিসিয়াল কর্ম কান্ড শুরু হবে। তার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাডেমিক কমিটির নিকট যাচাই করা এবং শিরোনাম ঠিক করে তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাব করে ফ্যাকাল্টির নিকট প্রেরণ করা হয়। ফাকাল্টির সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ড অব এ্যডভান্স স্টাডিজে সুপারিশ করার পর একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হয়। একাডেমিক কাউন্সিল সুপারিশ করলে সিন্ডিকেট অনুমোদন করে।

সিন্ডিকেট অনুমোদন করার পর আবেদনকারীকে রেজিস্ট্রার এর পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। সেখানে ভর্তি সংক্রান্ত শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়। উক্ত শর্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধ করে তত্ত্বাবধায়ক এর সুপারিশ এবং বিভাগের সভাপতির সুপারিশ নিয়ে হলের সুপারিশসহ আবেদন পত্র একাডেমিক শাখায় জমা দিতে হয়। জমা দেওয়ার পর তার ভর্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে কোন শর্ত অসম্পূর্ণ থাকলে তার আবেদনটি বিবেচনা করা হয় না। ভর্তি হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে সমন্বয় সাধন করে গবেষণা চালিয়ে যেতে হয়। পিএইচডি হলে দুটি সেমিনার করতে হয়।

এম.ফিল থেকে পিএইচডি স্থানান্তর
(Transfer from MPhil to PhD)
এম.ফিল থেকে পিএইচডি স্থানান্তর করতে হলে ৬০ শতাংশ নম্বর এবং দুটি রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ এবং একটি সেমিনারে করতে হয়। উল্লেখ্য যে উভয় ডিগ্রি সম্পন্ন করার পূর্বে ৪০০ নম্বর কোর্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অবশ্যই অনেক ভিসিপিলিনে পিএইচডিতে কোর্স চালু নেই।

গবেষণা কর্ম সম্পন্ন করে তত্ত্বাবধায়কের  সুপারিশ নিয়ে বিভাগের সভাপতির সুপারিশ নিয়ে ৫ কফি থিসিস  পরীক্ষণের জন্য পরীক্ষা নিমন্ত্রক বরাবর জমা দিতে হবে। এর পর অফিসের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন করতে পরীক্ষকদের নিকট প্রেরণ করা হয়।

মূল্যায়ন রিপোর্ট যদি ডিগ্রি প্রদান করার সুপারিশ করে তাহলে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এরপর একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে সিন্ডিকেট অনুমোদন করে। উল্লেখ্য যে এ ব্যাপারে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব Ordinance দ্বারা পরিচালিত হয়।
 
ইসলামী গবেষণায় শিরোনাম নির্ধারণ
(Determining Islamic research titles)

যে কোনো ধরনের গবেষণার সুপার পয়েন্ট তার শিরোনাম। অনেক পাঠক ও গবেষক শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারবেন গবেষণার বিষয় কী এবং ফলাফল কী আসছে এটা জানার জন্য উদগ্রীব হবে। ইসলামী গবেষণায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী গবেষণা করার ক্ষেত্র এতো ব্যাপক যে সঠিকভাবে শিরোনাম নির্ধারণ করা বিচক্ষন্নতার ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে আমরা সামাজিক  সমস্যা চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তোরণের উপায় গবেষণা করার নতুন দ্বার উম্মোচন করতে পারি। যেমন সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা নিম্নরূপ

শান্তি, প্রগতি, উন্নয়ন, শৃংঙ্খলা, বিশুদ্ধ আমল, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক হতে পারে।

আর একটি পর্যালোচনা হতে পারে তা হলো- যুদ্ধনীতি, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রনীতি, ধর্মীয় মতভেদ, রোগ-ব্যাধি, সততা, সন্ধি, জীবন চরিত এবং জকল্যাণে যে কোনো গবেষণা হতে পারে।

 নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ
(About human rights)
কালামে বারী তায়ালা হলো-
 وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
"তোমরা আল্লাহর বন্দেগী বা দাসত্ব কর। কোন কিছুকে তার শরীক করবে না। বাবা-মা আত্মীয়স্বজন এতিম বা দরিদ্র নিকট ও দূরের প্রতিবেশী সঙ্গী সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভূক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালোবাসেন না।" (৪:৩৬)

হাদীসে এসেছে- উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন - যে ব্যক্তি তার নিজ হাতে কোন মুসলিমের হক খেয়ে ফেলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন। একজন লোক প্রশ্ন করল, যদি তা সামান্য বস্তু হয়? তখন তিনি (স.) বললেন- দেখতে যদি তা আরাক গাছের ডাল পরিমাণও হয় তথাপিও। (সাহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর- ৩৭০)।

খাদ্য সম্পর্কে, আবাসন যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
 وَابْتَغِ فِيمَا آَتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآَخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
এবং আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন, তার দ্বারা পরলোকের কল্যাণ অনুসন্ধান করো। ইহলোকে তোমার বৈধ সম্ভোগকে উপেক্ষা করো না। আল্লাহ তোমার প্রতি যেমন সদাশয় হয়েছেন তুমি তেমনি (মানুষের প্রতি) সদাশয় হও এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করতে চেয়ো না; কারণ নিঃসন্দেহে আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীকে ভালোবাসেন না। (২৮:৭৭)

স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইসলাম
(Islam about health)
একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলা দেওয়া এই সুস্বাস্থ্য অন্যতম একটি  নিআমত। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদতের জন্য।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
অর্থ : আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।

مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ
অর্থ : আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে।
إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
অর্থ : আল্লাহ তা'আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।
তাই যথাযথভাবে ইবাদত করার জন্য মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতা খুবই প্রয়োজন। একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলার দেওয়া এই সুস্বাস্থ্য অন্যতম একটি নিআমত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ -صلى الله عليه وسلم-: "نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ" رواه البخاري.
অর্থ : দুইটি নিয়ামতের বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষ অসতর্ক ও প্রতারিত। সেগুলো হলো- সুস্থতা ও অবসর। (সহীহ বুখারী) কিয়ামতের দিন বান্দাদেরকে যেসব নিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে তন্মধ্যে সর্বপ্রথম প্রশ্ন করা হবে সুস্থতা প্রসঙ্গে। তাকে বলা হবে আমি তোমাদেরকে শারীরিক  সুস্থতা দেইনি? (সহীহ বুখারী)

বস্ত্রের সমস্যার সমাধান
(Solve clothing problems)

মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বস্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِّئَةُ حَبَّةٍ وَاللّهُ يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاء وَاللّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মত, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। আল্লাহ অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ। [ সুরা বাকারা ২:২৬১ ]
فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۗ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ ۖ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে। আর তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে ইয়াতীমদের সম্পর্কে। বল, সংশোধন করা তাদের জন্য উত্তম। আর যদি তাদেরকে নিজদের সাথে মিশিয়ে নাও, তবে তারা তোমাদেরই ভাই। আর আল্লাহ জানেন কে ফাসাদকারী, কে সংশোধনকারী এবং আল্লাহ যদি চাইতেন, অবশ্যই তোমাদের জন্য (বিষয়টি) কঠিন করে দিতেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ  - وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ - وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ -

তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে পথ-প্রদর্শন করেন। (২৬:৭৮)
তিনিই আমাকে আহার ও পানীয় দান করেন। (২৬:৭৯) এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। (২৬:৮০) 

 আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلاَلَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُواْ بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُواْ النُّورَ الَّذِيَ أُنزِلَ مَعَهُ أُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।

খাদ্য ও বস্ত্র ও আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণায় ইসলাম বাস্তবধর্মী একটা জীবন বিধান প্রমানিত হবে। দেশের ও মানবতার কল্যাণে কাজ হবে। এ ছাড়া জাতিগত বিদ্বেষ ও বর্ণবাদ প্রশোমনে কাজ হবে। এ ধরনের  গবেষণা কাজের ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে ইসলামে সকল সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম তা প্রমাণিত হবে।

আবাসন সমস্যার সমাধান
 (Solve housing problems)

আল্লাহ তাআলা আশ্রয়হীনদের আবাসন ব্যবস্থা করতে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِن كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
অর্থ :আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তা দ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেন, “জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিচ্ছিলেন, এমনকি আমার ধারণা হলো যে, অচিরেই তিনি তাকে হয়তো ওয়ারিস বানাবেন। (বুখারী: ৬০১৫, মুসলিম: ২৬২৫)
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَاللّهُ جَعَلَ لَكُم مِّمَّا خَلَقَ ظِلاَلاً وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْجِبَالِ أَكْنَانًا وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُم بَأْسَكُمْ كَذَلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ
আল্লাহ তোমাদের জন্যে সৃজিত বস্তু দ্বারা ছায়া করে দিয়েছেন এবং পাহাড় সমূহে তোমাদের জন্যে আত্ন গোপনের জায়গা করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্নসমর্পণ কর।
 فَإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلاَغُ الْمُبِينُ
অতঃপর যদি তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তবে আপনার কাজ হল সুস্পষ্ট ভাবে পৌছে দেয়া মাত্র।

 কূষি সমস্যার সমাধান
(Solve agricultural problems) 
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কূষি খাত।  এ খাতকে শক্তিশালী করতে  ব্যাপক গবেষণা দরকার। এ বিষয়গুলি গবেষণা করলে মানুষের কল্যাণেই কাজ হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَالأَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ وَمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ
চতুষ্পদ জন্তুকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। এতে তোমাদের জন্যে শীত বস্ত্রের উপকরণ আছে। আর অনেক উপকার হয়েছে এবং কিছু সংখ্যককে তোমরা আহার্যে? পরিণত করে থাক। [ সুরা নাহল ১৬:৫ ]
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُواْ مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُواْ مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُواْ مِن فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলঙ্কার। তুমি তাতে জলযান সমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ কর এবং যাতে তার অনুগ্রহ স্বীকার কর। (সুরা নাহল ১৬:১৪)

গবেষণার প্রায়োগিক অবস্থান
(The practical location of the study)
প্রায়োগিক adjective শব্দের অর্থ technical; empirical; pragmatic; empiric; Empiric empiricial;, রাষ্ট্রশাসন সংক্রান্ত; পরীক্ষামূলক; পরীক্ষালব্ধ বিষয়। ব্যবহার, বিনিয়োগ; উদাহরণ অর্থে ব্যবহার করা হয়।
আরবি ভাষায় -
 البحث العلمي أو البحث أو التجربة التنموية هو أسلوب منظم في جمع المعلومات الموثوقة وتدوين الملاحظات والتحليل الموضوعي لتلك المعلومات باتباع أساليب ومناهج علمية محددة بقصد التأكد من صحتها أو تعديلها أو إضافة الجديد لها، ومن ثم التوصل إلى بعض القوانين والنظريات والتنبؤ بحدوث مثل هذه الظواهر
 Scientific research, research, or development experience is a systematic method of gathering reliable information, taking notes, and objective analysis of that information by following specific scientific methods and approaches with a view to ascertaining their validity, modifying, or adding new ones, and then reaching some laws and theories and predicting the occurrence of such phenomena.
মুলত ইসলামী গবেষণায় যে ফলাফল আসবে তা কোথায় এবং কিভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন জীবিকার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বাস্তবধর্মী গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। এ গবেষণা জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরণের গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করাই প্রায়োগিক গবেষণা। বিগত গবেষণায় এই বিষয়ে মান সম্মত গবেষণা অপ্রত্যাশিতভাবে কম। বিধায় এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
 
গবেষণার ফলাফল নির্ধারণ
(Achieve research results)
অনুমান হলো এমন একটি ধারণা যা এখনো প্রমাণিত হয়নি। যদি কোনো অনুমানের স্বপক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগৃহীত হয় তাহলেই তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরের স্তরে প্রবেশ করে- বৈজ্ঞানিক থিওরি তা তত্ত্বে পরিণত হয়। এবং সেই তত্ত্বটিকে কোনো বাস্তব বিষয়ের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। আমাদের গবেষণা করার জন্য এ বিষয খেয়াল রাখতে হবে। আমরা গবেষণা করে যদি ভালো ফলাফল না দিতে পারি তাহলে কেউ গ্রহণ করতে চাইবেন না।

 ভবিষ্যতেরর গবেষণা সুযোগ
(Opportunity to do research in the future)
প্রস্তাবনা  শব্দ বিশেষ্য পদ এর অর্থ অবতারণা; অভিনয়ের সূচনা। প্রস্তাবনা হল কোনো নথির প্রারম্ভিক বিবৃতি যাতে ওই নথির দর্শন ও উদ্দেশ্য বর্ণিত থাকে। সংবিধানের ক্ষেত্রে, এতে সংবিধান গবেষণা করে গবেষক কোন পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। কোন অংশে তার গবেষণা তেমন কিছু নেই। আগামী গবেষকে সে বিষয়ে অবহিত করা। এটা গবেষকের নৈতিক দায়িত্ব।

উপসংহার :
উপরের আলোচনা থেকে বুঝতে পারছি যে ইসলামী বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে গেলে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান তথা কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। অন্যদিকে বিষয় নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে তাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র কল্যাণ সাধনের নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা করে তার ফলাফল বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। মোট কথা মানবতার কল্যাণ সাধন এর দ্বারা আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
 لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآَتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآَتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ
"নামাজের সময় পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানোতে তোমাদের জন্যে কোন সওয়াব বা পূণ্য নেই বরং পূণ্য তার, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ ও ঐশী গ্রন্থসমূহ এবং নবীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। আর সম্পদের প্রতি আসক্ত থাকা সত্ত্বেও যারা আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, পথিক ও ভিক্ষুকদের এবং দাসত্ব মোচনের জন্যে ধন-সম্পদ দান করে ও নামাজ প্রতিষ্ঠাসহ যাকাত দান করে, আর ওয়াদা করলে তা পূরণ করে এবং যারা অভাব, বঞ্চনা ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে, এরাই ঈমানের দাবিতে কথায়, আচরণে ও বিশ্বাসে সত্যবাদী এবং এরাই ধর্মভীরু।" (২:১৭৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
  

লেখক:
প্রফেসর ড সৈয়দ মাকসুদুর রহমান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া
বাংলাদেশ।


শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here