Saturday, July 18, 2020

শাফাআতের ইসলামী দৃষ্টিকোণ :একটি পর্যালোচনা

।। প্রফেসর ড সৈয়দ মাকসুদুর রহমান।।

সারসংক্ষেপ 

(Abstract ) 

ঈমানদার মানুষের জন্য শাফাআতের কামনা সবার আছ। সকলের সুখ শান্তি ও জান্নাতে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শাফাআত কামনা করে। এ শাফাআতের জন্য বেশ কিছু গুনাবলী অর্জন করতে হয়। তার মধ্যে ঈমান ও আমল বেশি গুরুত্বপূর্ন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

عن الصحابي الجليل أبي الدرداء رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : (من صلى عليَّ حين يصبح عشرًا ، وحين يمسي عشرًا ، أدركته شفاعتي يوم القيامة) رواه الطبراني

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল ও বিকাল  আমার উপর দশ বার করে দুরুদ পাঠ করবে কিয়ামতের দিন সে আমার শাফাআত পাবে। (তাবারানী)

এ ছাড়া কুরআন, সালাত, সাওম শহীদ এবং সন্তানের সুপারিশ প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন.

 ومن الليل فتهجد به نافلة لك عسى أن يبعثك ربك مقاماً محموداً

ভূমিকা (Introduction )

কিয়ামতের দিন বান্দার উপর আল্লাহ তাআলার বড় রহমত হলো শাফাআতের সুযোগ দেওয়া। সেদিন আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করবেন। যাকে জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্ত করবেন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে অনুমতি দিবেন। সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআতের খুবই প্রয়োজন হবে। মানুষের মধ্যে শাফাআতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার বিধান জানার আগ্রহ আছে। অনেকেই আবার বিষয়ে ভালো তথ্য জানেন না। আলোচ্য প্রবন্ধে শাফাআত কী এবং কারা এ শাফাআতের অধিকারী হবেন সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ،، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لاَ يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ، لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ( ‏"‏‏.رواه البخاري)

Narrated Abu Huraira: I said: "O Allah's Apostle! Who will be the luckiest person, who will gain your intercession on the Day of Resurrection?" Allah's Apostle said: O Abu Huraira! "I have thought that none will ask me about it before you as I know your longing for the (learning of) Hadiths. The luckiest person who will have my intercession on the Day of Resurrection will be the one who said sincerely from the bottom of his heart "None has the right to be worshipped but Allah

 আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল কোন ব্যক্তি আপনার শাফাআতে সৌভাগ্যশালী হবেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ মনে বলেন, আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই।

শাফাআতের সংজ্ঞা(definition of shafaat)

শাফাআতের শাব্দিক অর্থ :

(The literal meaning of intercession)

শাফাআতে আরবি শব্দ এর অর্থ সুপারিশ, মাধ্যম ও দুআ বা প্রার্থনা (intercession"; Turkish: şefaat; Urdu: shafaat)আরবি ভাষায় এর অর্থ বলা হয়েছে। এ ছাড়া

  سُؤَالُ الْخَيْرِ لِلْغَيْرِ (الإرشاد إلى صحيح) الاعتقاد)   الشّفاعة لغةً مصدرها شَفع، والشفع ضدّ الوتر وخلافه، ففيها يصبح الواحد اثنين، أي يصير الوتر شفعًا، والثلاثة أربعًا،وهلّم جرّا

কুরআন কারীমে এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ  অর্থ :যা জোড় ও যা বিজোড়

শাফাআতের পারিভিষক অর্থ

(Terminology of intercession)

শাফায়াত বলতে ইসলামী পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসুলগনের সুপারিশ করাকে বুঝায়। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট নবি-রাসুলরা শাফায়াত করবেন।

*অপরের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করা। (আল ইরশাদ ইলা সহীহিল ইতিক্বাদ : ২৬৭)

فهي "التوسط للغير بجلب منفعة أو دفع مضرة"، يعني أن يكون الشافع بين المشفوع إليه، والمشفوع له واسطة لجلب منفعة إلى المشفوع له، أو يدفع عنه مضرة.

*কেউ কেউ বলেছেনঃ

وَهِيَ السُّؤَالُ فِيْ التَّجَاوزِ عَنْ الذُّنُوْبِ وَ الْجَرَائِمِ (الكواشف الجلية /490 ط /4)

শাফাআত হচ্ছে পাপ ও আযাব হতে মুক্তির প্রার্থনা করা। (আল-কাওয়াশিফুল জালিয়্যাহ : ৪র্থ সংস্করণ, পৃ : ৪৯০) 

 

*أمّا اصطلاحًا فإنّ الشفاعة هي التوسط عند الآخرين بغرض جلب منفعة، أو دفع مضرة، وأطراف الشفاعة هم الشافع، والمشفوع إليه، والمشفوع له، وتقسم الشفاعة إلى قسمين هي الشفاعة الثابتة المشروعة، والشفاعة الباطلة

*in Islam is the act of pleading to    Allah by an intimate friend of Allah (Muslim saint) for forgiveness. Shafa' a close meaning to Tawassul, which is the act of resorting to intimate friends of Allah to ask forgiveness.

*يقول العلامة طباطبائي : "إنّ الشفاعة تكون في آخر موقف من مواقف يوم القيامة حيث يطلب فيها الشفيع المغفرة- فيحول دون دخول المشفوع له النّار، أو اخراج بعض من كان داخلًا فيها، باتساع الرحمة أو ظهور الكرامة

সংজ্ঞা বিশ্লেষণ (definitions analysis )

উপরের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে,

ক) শাফাআতের সময় কিযামতের দিন

খ) পাপ  থেকে মুক্তির সুপারিশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

ابن حبان في صحيحه عن أبي الدرداء قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: الشهيد يشفع في سبعين من أهل بيته. صحيح الجامع الصغير.

গ) নাবী ও রাসূলগন তাদের জন্য শাফাআত করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

كما ورد في الصحيحين: شفاعة عظمى، وهي التي سمّاها الله المقامَ المحمود، حيث تأتي الخلائق جميعُها بَرُّها، وفاجرُها إلى رسول الله عليه الصلاة والسلام، ليشفعَ لهم عند الله تعالى، حتى يُخرجَهم من أهوال المحشر إلى ساحة العرض، والحساب، فيستجيب الله لنبيه، ويُشفّعه في الخلائق جميعها، وهناك الشفاعة الخاصّة للنبيّ لأشخاص معينين في الأمّة، فقد ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام في الصحيحين أنّ له شفاعةً لعمّه أبي طالب، حيث يُخفف الله من عذابه يومَ القيامة، فيكون في ضَحضاح من النار، وهناك شفاعة نبوية ادّخرها النبي عليه الصلاة والسلام لمن مات من أمّته ولم يشرك بالله شيئاً.

ঘ) সর্ব প্রথম শাফাআতের করার অনুমতি পাবেন

মুহাম্মদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أنا سيد ولَد آدم يوم القيامة، وأول مَن يَنشق عنه القبر، وأول شافع، وأول مشفَّع)).

 শাফাআতের তাৎপর্য (Significance of intercession)  এর দ্বারা শাফাআতের মর্মার্থ, অথবা পূর্ণতা ও গুরূত্ব বুঝানো হয়েছে।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষের সব কাজকর্মের হিসাব নেবেন।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

,اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا (87)

"আল্লাহ এক এবং তিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই, তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন-যে দিনের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, তোমাদেরকে একত্র করবেন ৷ হে মানুষ- কে আল্লাহর চেয়ে বেশী সত্যবাদী?"(৪:৮৭)

তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

অর্থ :জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবলমাত্র কেয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদেরকে কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম (১)। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয় (২)।

এসময় নবি-রাসুল ও পুণ্যবান বান্দাগণ আল্লাহর দরবারে শাফায়াত করবেন। ফলে অনেক পাপীকে মাফ করে দেওয়া হবে। এরপর তাদের জান্নাতে দেওয়া হবে।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

, وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ (4

 সাবধান সেই দিনের ব্যাপারে: যেদিন কেউ অন্য কারও জন্য একটুও এগিয়ে আসবে না, কারও সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কোনো বিনিময় নেওয়া হবে নাসেদিন কেউ কারও সাহায্য পাবে না। [বাকারাহ ৪৮]

শাফাআতের প্রকারভেদ

(Types of intercession)

( ১) শরীআত সম্মত শাফা'আত

(Shari'ah-compliant intercession)

যে শাফাআতের দুআ বা প্রার্থনা আল্লাহ তাআলার নিকট করা হয় তাকে শরীয়ত সম্মত শাফাআত বলা হয়। একে শাফাআতে মুসতাবাহ বা শরীয়ত স্বীকৃত শাফাআতও বলা হয়। আবার শাফাআতে মাকবুলাও বলা হয়।

 

 شفاعة ثابتة صحيحة، وهي التي أثبتها الله تعالى في كتابه، أو أثبتها رسوله صلى الله عليه وسلم ولا تكون إلا لأهل التوحيد والإخلاص

؛ لأن أبا هريرة رضي الله عنه قال: يا رسول الله من أسعد الناس بشفاعتك؟ قال: "من قال: لا إله إلا الله خالصاً من قلبه

এ শাফাআতের শর্ত তিনটি

আল্লাহ তাআলা যার শাফাআত গ্রহণ করবেন, তাকে প্রথমে তিনি অনুমতি দিবেন।

আল্লাহ তাআলার অনুমতি ছাড়া কেউ শাফাআত করতে পারবে না।[২০:১০৯, ২:২৫৫, ৫৩:২৬]

যিনি শাফাআত করবেন, তার প্রতি আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট থাকতে হবেন।[২১:২৮, ৫৩:২৬]

যার জন্য শাফাআত করা হবে, তার প্রতি আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট থাকতে হবেন, তার ঈমান থাকতে হবেনামায, যাকাত, গরিবদের হক আদায় ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পাশ করতে হবে।[৭৪:৩৮-৪৮]

যদি আল্লাহ তাআলা কারও প্রতি সন্তুষ্ট না হন, সে সুপারিশ পাবে না। সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়। যেমন -

ক)

 رضا الله تعالى عن الشافع.

যিনি শাফাআত করবেন আল্লাহ তাআলা তার উপর খুশী হবেন।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاء وَيَرْضَى

আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।

খ) الشرط الثاني: رضا الله عن المشفوع له. যার জন্য শাফাআত করবেন তার উপর আল্লাহ তাআলা সন্তূষ্টি থাকবেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ

আয়াত-২৮ অর্থ : তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে, তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত।

গ)  الشرط الثالث: إذن الله تعالى للشافع أن يشفعশাফাআতকারী আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনুমতি প্রাপ্ত হবেন।

 

{وكم من ملك في السموات لا تغني شفاعتهم شيئاً إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى}، ومُفصَّلة في قوله: {من ذا الذي يشفع عنده إلا بإذنه}، وقوله: {يومئذ لا تنفع الشفاعة إلا من أذن له الرحمن ورضي له قولاً}، وقوله: {ولا يشفعون إلا لمن ارتضى}، فلا بد من هذه الشروط الثلاثة حتى تتحقق الشفاعة

.কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফায়াত করা হবে। এটাই শাফায়াতে সুগরা। নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলিম, হাফেজ এ শাফায়াতের সুযোগ পাবে। কুরআন ও সিয়াম (রোজা) শাফায়াত করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ

কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় এসে দরজা খুলতে বলব। জান্নাতের দারোয়ান বলবেঃ কে আপনি? আমি বলবঃ মুহাম্মাদ। দারোয়ান বলবেঃ আপনার জন্যই দরজা খোলার আদেশ দেয়া হয়েছে এবং আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্য জান্নাতের দরজা খুলতে নিষেধ করা হয়েছে’’।[2]

কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর শাফাআতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে।

আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন,

(يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَفَعْتَ أَبَا طَالِبٍ بِشَيْءٍ فَإِنَّهُ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ قَالَ نَعَمْ هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ وَلَوْلَا أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ)

হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আবু তালেবের কোন উপকার করতে পারলেন? সে তো আপনাকে শত্রুদের অনিষ্ট হতে হেফাযত করতো এবং আপনার জন্যে মানুষের সাথে রাগান্বিত হত। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঠিক আছে। সে এখন জাহান্নামের আগুনের উপরিভাগে অবস্থান করছে। আমি না থাকলে সে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করত।

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن لكل نبي دعوة مستجابة يدعو بها وأريد أن أختبئ دعوتي شفاعة لأمتي في الآخرة" متفق عليه (شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي) رواه أبو داود

‘‘আমার উম্মাতের কবীরা গুনায় লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্যে আমার শাফাআত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

 

(لاَ تَزَالُ جَهَنَّمُ يُلْقَى فِيهَا وَتَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا قَدَمَهُ فَيَنْزَوِي بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَتَقُولُ قَطْ قَطْ بِعِزَّتِكَ وَكَرَمِكَ)

‘‘কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। জাহান্নাম বলবেঃ هَلْ مِنْ مَزِيْدٍ ‘‘আরো আছে কি?’’ পরিশেষে মহান রাববুল আলামীন তাতে নিজ পা রাখবেন। এতে জাহান্নাম সংকুচিত হয়ে যাবে এবং বলবেঃ ‘‘আপনার ইজ্জত ও সম্মানের শপথ! যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে’’।[9]

 (২) শিরকী শাফাআত

 (Shirk intercession)

 যে শাফাআতের দুআ গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারোর নিকট করা হয় তাকে শিরকী শাফাআত বলা হয়। এর অপর নাম শাফাআতে মানফিয়্যাহ(الشفاعة المنفىة) বা নিষিদ্ধ শাফাআত। আমরা একে বাতিল শাফাআত বলতে পারি।

الشفاعة الباطلة التي لا تنفع أصحابها، وهي ما يدَّعيه المشركون من شفاعة آلهتهم لهم عند الله عز وجل، فإن هذه الشفاعة لا تنفعهم 

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

فما تنفعهم شفاعة الشافعين

What does the intercessor’s intercession benefit (48)? এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের শাফাআত পাওয়া যায়। যেমন -

أقسام الشفاعة الثابتة

1- الشفاعة العظمى(শাফাআত উযমা ) .

2- الشفاعة في دخول المؤمنين الجنة.(মুমিনের জান্নাতে প্রবেশ করতে শাফাআত )

3- الشفاعة لرفع درجات أهل الجنة.( মুমিনের জান্নাতে র মর্যাদা বৃদ্ধি করার শাফাআত )

4- الشفاعة لقوم استحقوا النار أن لا يدخلوها.(জাহান্নামের জন্য যারা বিচারের মাধ্যমে নির্ধারিত তাদের জন্য শাফাআত )

5- الشفاعة في أهل الكبائر.( কাবীরা গুনাহকারীদের জন্য শাফাআত )

6- شفاعة الرسول صلى الله عليه وسلم لعمه أبي طالب في تخفيف العذاب عنه.( জাহান্নামের আযাব কমানোর জন্য আবু তালিব এর জন্য শাফাআত )

7- الشفاعة لأقوام أن يدخلوا الجنة بغير حساب.(বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ কারীদের জন্য শাফাআত )

8- شفاعة الرسول صلى الله عليه وسلم لأهل المدينة المنورة.মাদীনা বাসীদের জন্য শাফাআত )

ومن هذه الشفاعات ما هو خاص بالرسول صلى الله عليه وسلم، ومنها ما يكون له وللأنبياء الآخرين عليهم الصلاة والسلام، ومنها ما يكون لخواص الخلق. 

শাফায়াতের কারণ

 (Reasons for intercession)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

عن أبي هريرةَ رضي الله عنه أنه قال: قيل: يا رسول الله، مَن أسعدُ الناس بشفاعتك يوم القيامة؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لقد ظَننتُ يا أبا هريرة ألَّا يسألَني عن هذا الحديث أحدٌ أول منك؛ لِمَا رأيت من حرصك على الحديث، أسعدُ الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال: لا إله إلا الله، خالصًا من قلبه أو نفسه

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

 "আত্মীয়-স্বজন হলেও অংশীবাদী মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও ঈমানদারদের জন্য সংগত নয়। যখন এটা স্পষ্ট হয়ে যে তারা জাহান্নামী। (৯:১১৩) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

قُل لِّلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا لَّهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

৪৪) বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান ও যমীনে তারই সাম্রাজ্য। অতঃপর তারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

মূলত দুটি কারণে শাফায়াত করে হবে। যথা:

পাপীদের ক্ষমা করা বা পাপ মার্জনা করার জন্য।

পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও কল্যাণ লাভের জন্য।

وقال صلى الله عليه وسلم: ((لكل نبي دعوةٌ مستجابة، فتعجَّل كل نبي دعوته، وإني اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة، فهي نائلة إن شاء الله مَن مات من أمتي لا يشرك بالله شيئًاوأخرجه ابن ماجة في " كتاب الزهد " " باب ذكر الشفاعة " حديث "4307 "

*কুরআন আল্লাহর নিকটে তার তেলওয়াতকারীর ্ জন্য সুপারিশ করবে ।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন

,عن أبي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي رضي الله عنه قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ ... رواه مسلم (804)

 وقال صلى الله عليه وسلم: ((القرآن شافعٌ مُشفَّع، وما حلَّ مصدق، من جعله أمامَه قاده إلى الجنة، ومن جعله خلفَ ظهره ساقه إلى النار

*রোজাদারের জন্য রোজা সুপারিশ করবে । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

 قال صلى الله عليه وسلم: الصيامُ والقرآن يشفعان للعبد، يقول الصيام: ربِّ، إني منعتُه الطعام والشراب بالنهار، فشفِّعني فيه، ويقول القرآن: ربِّ، منعتُه النوم بالليل؛ فشفِّعني فيه، فيشفعان

 *আযানের দূআর  পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে ।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

قال صلى الله عليه وسلم: مَن قال حين يسمع النداء: اللهم ربِّ هذه الدعوة التامة، والصلاة القائمة آتِ محمدًا الوسيلةَ والفضيلة، وابعثه مقامًا محمودًا الذي وعدته - حلت له شفاعتي يوم القيامة

*মদিনার মৃত্যু হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য সুপারিশ করবেন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

وقال صلى الله عليه وسلم: مَن استطاع أن يموتَ بالمدينة، فلْيَمُتْ بها؛ فإني أشفع لمن يموتُ بها

*অধিক জানাযার নামায জন্য সুপারিশ করা হবে ।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

 ما من رجلٍ مسلم يموتُ فيقوم على جنازته أربعون رجلًا، لا يشركون بالله شيئًا، إلا شفَّعهم الله فيه

* ছোট সন্তান মৃত্যুবরণ সবরের  জন্য সুপারিশ করবে । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন

, قال صلى الله عليه وسلم: ما من مسلمين يموت بينهما ثلاثةُ أولادٍ لم يبلغوا الحنثَ - إلا أدخلهما الله بفضل رحمتِه إيَّاهم الجنة))، قال: يقال لهم: ادخلوا الجنة، فيقولون: حتى يدخل آباؤنا، فيقال: ادخلوا الجنةَ أنتم وآباؤكم

*ঈমানের  জন্য সুপারিশ ।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا (40)

"নিঃসন্দেহে আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না এবং অণু পরিমাণ পূণ্যকার্য হলেও তিনি তা দ্বিগুণ করে দেন এবং আল্লাহ তার কাছ থেকে মহাপুরস্কার দান করে থাকেন ৷" (৪:৪০)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

قال صلى الله عليه وسلم: "إن الرجل لترفع درجته في الجنة فيقول: أنى هذا؟ فيقال: باستغفار ولدك لك"

শাফাআতের ব্যাপারে মতবিরোধ

(Disagreement on intercession)

আহললুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবিরা গুনাহকারীদের  জন্য  শাফাআত করবেন । খারিজি ও মুতাযিলাগণ এর মতে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবিরা গুনাহকারীদের জন্য শাফাআতে করবেন না। তাদের দলীলআল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

  أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَنفِقُواْ مِمَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لاَّ بَيْعٌ فِيهِ وَلاَ خُلَّةٌ وَلاَ شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম। (আয়াত-২৫৪)।

 এই আয়াতে কোনো শাফাআতের সুযোগ থাকে না।

وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ ۚ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ

অর্থ :আর তুমি তাদের আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও। যখন তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে দুঃখ, কষ্ট সংবরণ অবস্থায়। যালিমদের জন্য নেই কোন অকৃত্রিম বন্ধু, নেই এমন কোন সুপারিশকারী যাকে গ্রাহ্য করা হবে। এই আয়াতে ও শাফাআতের কোন ধরনের সুযোগ নেই। কিন্তু আহললুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতে, কবিরা গুনাহকারীদের কাফির বলা যাবে না। সুতরাং এই আয়াতের দলীল ঈমানদারগণ এর জন্য প্রযোজ্য হবে না। তাঁদের দলীল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

,وكم من ملك في السموات لا تغني شفاعتهم شيئاً إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى}،{من ذا الذي يشفع عنده إلا بإذنه}، وقوله: {يومئذ لا تنفع الشفاعة إلا من أذن له الرحمن ورضي له قولاً}،  {ولا يشفعون إلا لمن ارتضى

.কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফাআত করা হবে। এটাই শাফাআতের সুগরা। নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলিম, হাফেজ এ শাফাআতের সুযোগ পাবেন। কুরআন ও সিয়াম (রোজা) শাফাআত করবে।

উপসংহার

(Conclusion )

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, কিয়ামতের দিন যখন মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকবে তখন আদম আলাইহিস সালাম  নূহ  আলাইহিস সালাম  মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য নবিদের নিকট উপস্থিত হয়ে শাফাআতের জন্য অনুরোধ করবে। তারা সকলেই অপারগতা প্রকাশ করবেন। তখনই সবাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাজদাহ করবেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তার মর্যাদা বর্ণনা করবেন। তারপর তিনি তার রবের নিকট সুপারিশ করার অনুমতি চাইবেন। আল্লাহ তাআলা তাকে অনুমতি দিবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার নিকট সুপারিশ করবেন। একে শাফাআতে কুবরা  (الشفاعة الكبرى ) বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

حديث أبي هريرة رضي الله عنه ( فيأتوني، فيقولون: يا محمد أنت رسول الله وخاتم الأنبياء وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر، اشفع لنا إلى ربك، ألا ترى إلى ما نحن فيه، فأنطلق، فآتي تحت العرش، فأقع ساجداً لربي عز وجل، ثم يفتح الله علي من محامده وحسن الثناء عليه شيئاً لم يفتحه على أحد قبلي، ثم يقال يا محمد ارفع رأسك، سل تعطه، واشفع تشفع ) متفق عليه.

এ সময় শাফাআতের অধিকার একমাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাফাআতের তাওফীক দান করুন, আমীন।

و صلى الله تعالى على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وسلم تسليما كثيرا.

 

লেখক:

প্রফেসর,

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া,

বাংলাদেশ



শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here