Monday, July 27, 2020

ঈদুল আজহার তাৎপর্য ও বিধিবিধান

।। বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল।।

ঈদুল আজহা কুরবানীর ঈদ। ত্যাগের ঈদ। প্রিয় পশু কুরবানীর মাধ্যমে মুসলিমগণ আল্লাহর দরবারে তার ত্যাগ উপস্থাপন করেন। ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি। বাংলাদেশে এই উৎসবটি কুরবানীর ঈদ এবং বকরা ঈদ নামেও পরিচিত। ঈদুল আজহা মূলত আরবি বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। আসলে এটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ত্যাগ করা। এটি মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কুরবানী (জবাই) দেয়। আল্লাহর আদেশে হজরত ইব্রাহিম (.)-এর আপন পুত্র হজরত ঈসমাইল (.)-কে কুরবানী করার ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বে মুসলিম ধর্মাবলম্বী এই দিবসটি পালন করে। হিজরী বর্ষপঞ্জি হিসেবে জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত তিনদিন ঈদুল আজহা চলে। হিজরী চন্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিরত এবং ঈদুল আজহার মাঝে দুই মাস দশদিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সর্বোচ্চ ৭০ দিন হতে পারে। আমাদের ধর্মীয় জীবনে আত্মত্যাগের মহান উৎসব হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানীর ঈদ। ঈদের এই পবিত্র দিনে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ বিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলমান পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানীর ঈদ পালন করে থাকে। মূলত আমরা কুরবানীর মাধ্যমে কে কতটুকু আত্মত্যাগ এবং মহান আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব পালনের পরিচয় দিচ্ছি আল্লাহপাক তা প্রত্যক্ষ করেন।

ঈদুল আজহার বিধান

মুসলিম ভাই, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি যে, তিনি আপনাকে দীর্ঘজীবি করেছেন, যার ফলে আপনি আজকের দিনগুলোতে উপনীত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছেন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার জন্য ইবাদত নেক আমল করার সুযোগ পেয়েছেন। ঈদ উম্মতের বৈশিষ্ট্য এবং দ্বীনের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। আপনার দায়িত্ব এটা গুরুত্ব সম্মানসহ গ্রহণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন : এটাই হল আল্লাহর বিধান; যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে। নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাকওয়া থেকেই।’ (সুরা-হজ্ব : ৩২)

ঈদের ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কিছু আদব ও আহকাম

১. তাকবীর : আরাফার দিনের ফজর থেকে শুরু করে তাশরীকের দিনের শেষ পর্যন্ত, তথা জিলহজ্ব মাসের তেরো তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবীর বলা। আল্লাহ তায়ালা বলেন : আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিনসমূহে।’ (সুরা-বাকারা : ২০৩)

তাকবীর বলার পদ্ধতি : আল্লাহর জিকির বুলন্দ সর্বত্র ব্যাপক করার নিয়তে পুরুষদের জন্য মসজিদ, বাজার, বাড়িতে সালাতের পশ্চাতে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করা সুন্নত।

২. কুরবানী করা : ঈদের দিন ঈদের সালাতের পর কুরবানী করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি ঈদের আগে জবেহ করল, তার উচিত তার জায়গায় আরেকটি কুরবানী করা। আর যে এখনো কুরবানী করেনি, তার উচিত এখন কুরবানী করা। (বুখারী মুসলিম)

কুরবানী করার সময় চার দিন। অর্থাৎ নহরের দিন এবং তার পরবর্তী তাশরীকের তিন দিন। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : তাশরীকের দিন কুরবানীর দিন।’ (সহীহ হাদীস সমগ্র : ২৪৬৭)

৩. পুরুষদের জন্য গোসল করা ও সুগন্ধি মাখা : সুন্দর কাপড় পরিধান করা, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান না করা, কাপড়ের ক্ষেত্রে অপচয় না করা। দাঁড়ি না মু-ানো, এটা হারাম। নারীদের জন্য ঈদগাহে যাওয়া বৈধ, তবে আতর সৌন্দর্য প্রদর্শন পরিহার করবে। মুসলিম নারীদের জন্য কখনো শোভা পায় না যে, সে আল্লাহর ইবাদতের জন্য তাঁরই গুনাহতে লিপ্ত হয়ে ধর্মীয় কোনো ইবাদতে অংশগ্রহণ করবে। যেমন-সৌন্দর্য প্রদর্শন, সুগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদি করে ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।

বস্তুত ঈদের দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। কেননা দিনে সকল মানুষ সালাত আদায়ের জন্য মিলিত হয়। যে কারণে জুমআর দিন গোসল করা মুস্তাহাব সে কারণেই ঈদের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে গোসল করাও মুস্তাহাব।

হাদীসে এসেছে : ইবনে উমর (রা.) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, তিনি ঈদুল-ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। (মুয়াত্তা মালেক : /১৭৭)

সায়ীদ ইবনে মুসাইয়াব রহ. বলেন : ঈদুল ফিতরের সুন্নাত তিনটি : ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া, ঈদগাহের দিকে যাওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া, গোসল করা। এমনই ভাবে সুগন্ধি ব্যবহার উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।’(এরওয়ায়ুল গালীল : /১০৪)

৪. কুরবানীর গোশত ভক্ষণ করা : ঈদুল আজহার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) খানা খেতেন না, যতক্ষণ না তিনি ঈদগাহ থেকে ফিরে আসতেন, অতঃপর তিনি কুরবানী গোশত থেকে ভক্ষণ করতেন। তাই সুন্নাত হলো ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদের সালাত আদায়ের পূর্বে খাবার গ্রহণ করা। আর ঈদুল আজহাতে ঈদের সালাতের পূর্বে কিছু না খেয়ে সালাত আদায়ের পর কুরবানীর গোশত খাওয়া সুন্নাত। হাদীসে এসেছে : বুরাই-দা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিনে না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আজহার দিনে ঈদের সালাতের পূর্বে খেতেন না। সালাত থেকে ফিরে এসে কুরবানীর গোশত খেতেন।’ (সহীহ ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৪২২)

৫. সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া : ঈদগাহতেই সালাত আদায় করা সুন্নাত। তবে বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে মসজিদে পড়া বৈধ, যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পড়েছেন। ঈদগাহে তাড়াতাড়ি যাওয়া উচিত। যাতে ইমাম সাহেবের নিকটবর্তী স্থানে বসা যায় ভাল কাজ অতি তাড়াতাড়ি করার সওয়াব অর্জন করা যায়, সাথে সাথে সালাতের অপেক্ষায় থাকার সওয়াব পাওয়া যাবে। ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া হল মুস্তাহাব। হাদীসে এসেছে : আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন : সুন্নাত হল ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন হাদীসটি হাসান। তিনি আরও বলেন : অধিকাংশ আলেম অনুযায়ী আমল করেন এবং তাদের মত হলো পুরুষ ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাবে, এটা মুস্তাহাব। আর গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া যানবাহনে আরোহন করবে না।’ (তিরমিযী : ৪৩৭)

৬. মুসলিমদের সাথে সালাত আদায় করা এবং খুতবায় অংশগ্রহণ করা : উলামায়ে কেরামদের প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, ঈদের সালাত ওয়াজিব। এটাই ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন, যেমন-আল্লাহ তায়ালা বলেন : অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর।’ (সুরা-আল কাউসার : )

উপযুক্ত কোনো কারণ ছাড়া ঈদের সালাতের ওয়াজিব রহিত হবে না। মুসলিমদের সাথে নারীরাও ঈদের সালাতে হাজির হবে। এমনকি ঋতুবর্তী নারী যুবতী মেয়েরাও। তবে ঋতুবর্তী নারীরা ঈদগাহ থেকে দূরে অবস্থান করবে।

৭. রাস্তা পরিবর্তন করা : এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া অপর রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফেরা মুস্তাহাব। যেহেতু তা রাসুলুল্লাহ (সা.) করেছেন। আর একটি সুন্নত হল যে পথে ঈদগাহে যাবে সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসবে। যেমন-হাদীসে এসেছে : জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী (সা.) ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন। (বুখারী : ৯৮৬)

অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে আসতেন।

৮. ঈদের শুভেচ্ছা জানানো : ঈদের দিন একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। যেমন-বলা : আল্লাহ আমাদের থেকে তোমাদের থেকে নেক আমলসমূহ কবুল করুন বা ধরনের অন্য কিছু বলা। একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো, অভিবাদন করা মানুষের সুন্দর চরিত্রের একটি দিক। এতে  খারাপ কিছু নেই। বরং এর মাধ্যমে একে অপরের জন্য কল্যাণ কামনা দোয়া করা যায়। পরস্পরের মাঝে বন্ধুত্ব আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়। ঈদ উপলক্ষে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরীয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। যেমন :

) হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন : যুবাইর ইবনে নফীর থেকে সঠিক সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আমাদের আপনার ভাল কাজগুলো কবুল করুন।

) ঈদ মোবারক বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

) প্রতি বছরই আপনারা ভাল থাকুন।

ধরনের সকল মার্জিত বাক্যের দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। তবে প্রথমে উল্লেখিত বাক্য : তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’-এই বাক্য দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করা উত্তম। কারণ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বাক্য ব্যবহার করতেন এতে পরস্পরের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া রয়েছে। আর যদি কেউ সব বাক্যগুলো দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চায় তাতে অসুবিধা নেই। যেমনÑঈদের দিন দেখা হলে বলবে : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার আপনার সৎ কর্মসমূহ কবুল করুন। সারা বছরই আপনারা সুখে থাকুন। আপনাকে বরকতময় ঈদের শুভেচ্ছা।

এ দিনগুলোতে সাধারণ ঘটে যাওয়া কিছু বিদআত ও ভুলভ্রান্তি থেকে সকলের সতর্ক থাকা জরুরি :

১. সম্মিলিত তাকবীর বলা : এক আওয়াজে অথবা একজনের বলার পর সকলে সমস্বরে বলা থেকে বিরত থাকা।

২. ঈদের দিন হারাম-নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হওয়া : গান শোনা, ফিল্ম দেখা, বেগানা নারী-পুরুষের সাথে মেলামেশা করা ইত্যাদি পরিত্যাগ করা।

৩. কুরবানীর পশু জবেহ করার পূর্বে চুল, নখ ইত্যাদি কর্তন করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানী দাতাকে জিলহজ্ব মাসের আরম্ভ থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

৪. ঈদের দিনে কবর জিয়ারত করা : কবর জিয়ারত করা শরীয়ত সমর্থিত একটি নেক আমল। কিন্তু ঈদের দিনে কবর জিয়ারত করার কোনো বিশেষত্ব নেই। ঈদের দিন কবর জিয়ারত করাতে বিশেষ সওয়াব আছে বলে বিশ্বাস করা বা ঈদের দিনে কবর জিয়ারতকে অভ্যাসে পরিণত করা বা একটা প্রথা বানিয়ে নেওয়া শরীয়ত সম্মত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা আমার কবরে ঈদ উদযাপন করবে না বা ঈদের স্থান বানাবে না...’ (আবু দাউদ : ২০৪২)

৫. গান-বাদ্য : ঈদের দিনে গুনাহের কাজটাও বেশি হতে দেখা যায়। গান বাদ্যযন্ত্র যে শরীয়তে নিষিদ্ধ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আবার যদি হয় অশ্লীল গান তাহলে তো তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত নেই। হাদীসে এসেছে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দল পাওয়া যাবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে।’ (বুখারী : ৫৫৯০)

৬. পুরুষ কর্তৃক মহিলার বেশ ধারণ করা ও মহিলা কর্তৃক পুরুষের বেশ ধারণ : পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন সাজ-সজ্জার ক্ষেত্রে পুরুষের মহিলার বেশ ধারণ মহিলা পুরুষের বেশ ধারণ করা হারাম। ঈদের দিনে কাজটি অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। হাদীসে এসেছে : ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে রাসুল (সা.) ওই সকল মহিলাকে অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং ওই সকল পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন যারা মহিলার বেশ ধারণ করে।’ (আবু দাউদ : ৪০৯৭)

৭. অপচয় ও সীমালঙ্ঘন করা : এমন খরচ করা, যার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য নেই, যার কোনো ফায়দা নেই, আর না আছে যার কোনো উপকার। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : আর তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের ভালবাসেন না।’ (সুরা-আনআম : ১৪১)

আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় আন্তর্জাতিক জীবনে ঈদুল আজহা বা কুরবানীর ঈদ বারবার আমাদের আনন্দ নিয়ে আসছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে ধনী-গরিব ছোট-বড় এক কাতারে শামিল হয়ে যে উৎসবমুখর আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং যা পরিলক্ষিত হয় তা অন্যকোন ধর্মীয় পর্বে বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। আর এর মাধ্যমেই আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক জীবন বিকশিত হয়। পবিত্র ঈদুল আজহার শিক্ষাই হচ্ছে আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হওয়া। মানবিক কল্যাণ সাধন করা। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সৌভ্রাতৃত্বে বাধনকে আর দৃঢ় করা। পবিত্র ঈদুল আজহা প্রতিবছর আমাদের জন্য বয়ে আনে আত্মত্যাগের মহান বার্তা। এই পবিত্র দিনে আমরা আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে প্রচেষ্টা চালাই। তবে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে আমরা যেন নিছকভাবে লৌকিকতা, আত্মম্বরীতা, বাহাদুরী প্রতিযোগিতামূলক রক্তক্ষরণ গোশত ভক্ষণ করে ঈদুল আজহার তাৎপর্য শিক্ষাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার আপনার কুরবানী কবুল করুন। আমরা যেন সত্যিকারভাবে তাকওয়া অর্জনে কামিয়াবী হই এবং আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি, নৈকট্য অর্জনে সমর্থ হই। আপনারা উপরে বর্ণিত নেক আমল ছাড়াও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যতœশীল হোন। যেমনÑস্বজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা, একে অপরকে মহব্বত করা এবং গরিব ফকিরদের উপর মেহেরবান হওয়া এবং আনন্দ উৎসবকে তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া ইত্যাদি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে তাঁর সকল পছন্দনীয় কথা কাজের আমল করার তাওফিক দান করুন।

লেখক : প্রকাশক ও সংগঠক।



শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here