Friday, November 27, 2020

ইবির আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পেলেন প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান

।। ইমদাদুল হক যুবায়ের।।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এর পঠন-পাঠন শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালিত হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট রয়েছে যা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাতন্ত্রিক র্মযাদায় উন্নীত করেছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলাম  ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধন করা অর্থাৎ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে যাবতীয় বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা ও  শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী করা।

এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখে এর অর্থবহ মনোগ্রাম তৈরী করা হয়েছে যাতে পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১১৯ নং আয়াত إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّـهِ الْإِسْلَامনিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থা একমাত্র ইসলামসংযোজিত হয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি। যার অধীনে আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ রয়েছে, যেসব বিভাগ শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্য কোনো দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ধর্মতত্ত্ব অনুষদের আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান। তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় -এর আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। উক্ত ব্যাচে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। অনেক দিক থেকেই তিনি প্রথম। আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম ব্যাচের হয়ে ফ্যাকাল্টি ফাস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনিই প্রথম এ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৩ বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া বাংলাদেশের আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১০ম চেয়ারম্যান হিসেবে ঐতিহ্যবাহী এ বিভাগে যোগদান করেন। এ দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি বিভাগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি প্রফেসর ড. আশরাফুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

এ সময় থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুলাইমান, আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. ইয়াকুব আলী, ইবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখে আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতির মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হয়। পরে একই দিন থেকে বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমানকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

যোগদান অনুষ্ঠানে নতুন চেয়ারম্যান তাঁর প্রদত্ত বক্তব্যে বলেন- “এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছি। প্রিয় ক্যাম্পাস ও আমার এ বিভাগই হলো আমার পদচারণার ক্ষেত্র। গবেষণা, পাঠদান ও ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা, উৎসাহ প্রদান করা আমার প্রতিদিনের কর্মসূচি। আজ থেকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব  প্রাপ্ত হলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়ন, একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং আর্থিক বিষয়ে জবাবদিহিতা আমার লক্ষ্য। আমি এ বিভাগকে বিশ্বমানের পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাই। আমার সম্মানিত সহকর্মীদের মেধা ও যোগ্যতা বিভাগের কল্যাণে বিনিয়োগ করতে চাই। গভীরভাবে স্মরণ করি এ বিভাগের দুইজন পন্ডিতদের; যারা আমাদের বিভাগ থেকে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রফেসর ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহমাতুল্লাহ আলাইহি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী রাহমাতুল্লাহ আলাইহি। আল্লাহ তাআলা তাদের জান্নাতুল ফিরদউস দান করুন। এ বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি ও অগ্রগতিতে আমরা যেন সঠিকভাবে ভূমিকা পালন করতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক দান করুন, আমীন।”

প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান১লা জানুয়ারী ১৯৭৪ সালে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার বাশুয়াড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা সৈয়দ আনছার আলী ও খন্দকার সালেহা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি বাশুয়াড়ী প্রাথমিক ও পরবর্তীতে বাশুয়াড়ী সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম বোর্ডবৃত্তিসহ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কুষ্টিয়ার ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরিক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকারসহ অনুষদীয় প্রথম হন এবং মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক” প্রাপ্ত হন।

১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় সমাবর্তনে মাননীয় আচার্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ সৈয়দ মাকসুদুর রহমানকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করেন। তিনি অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায ৮৩ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত হন এবং ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অধিকার করেন ( উল্লেখ্য যে, এটি বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষা বর্ষের সর্বোচ্চ রেকর্ড ) । উক্ত অনুষ্ঠানে convocation speaker হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান স্যার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এ.এস.এইচ. কে সাদেক। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. কায়েস উদ্দিন স্যার, ভাইস চ্যান্সেলর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ ।

(ছবিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেডেল পরিয়ে দিচ্ছেন)

তিনি ২০০১ সালে একই বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে সহকারী অধ্যাপক এবং ২০০৮ সালে সহযোগী অধ্যাপকে উন্নীত হন। তিনি এমফিল ও পি.এইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তার থিসিসের শিরোনাম যথাক্রমে – মাওলানা মুহাম্মদ আলী শাহ ইরানী: ইসলাম প্রচারে তার অবদান” ও আল্লামা ইউসুফ বিননুরী: ইলমুল হাদীসে তার অবদান তার তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত দশের অধিক এমফিল এবং তিনটি পি.এইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বহিস্থ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয়চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ  বিশ্ববিদ্যালয় এর পরীক্ষক হিসেবে ডিগ্রি প্রদান করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও লালন শাহ হলের সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালক করেন। তিনি পাকিস্তানভারতসৌদি আরবসিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপ সফর করেন। তিনি বিশ্বের ধর্ম পরিচিত’’ গ্রন্থের রিভোয়ার হিসেবে মতামত লিখেছেন। ২০১৩ সাল হতে তিনি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক যা দেশি বিদেশি অনেক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সম সাময়িক অনেক মিডিয়ায় মতামত পদান করেছেন। তিনি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য সম্মাননা পদক পেয়েছেন। তাঁর একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:

১। আল্লামা আল্লামা ইউসুফ বিননুরী: ইলমুল হাদীসে তার অবদান।
২। যাকাত ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশে দরিদ্র বিমোচনে এর ভূমিকা।

এ ছাড়া তিনি আর্তমানবতার সেবায় অনেক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এদেশের তৌহিদী জনতার হৃদয়ে লালিত এক চরম ও পরমাকাংখিত বস্তু। আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন, গর্বের উৎস, হৃদয়ের একান্ত আবেগ-ভালোবাসা। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর গৌরব উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় এর গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগকে নব নিযুক্ত সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান স্যার স্বীয় মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে একটি মডেল বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলতে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে আমরা আশাবাদী। আশা করি স্যারের দক্ষ নেতৃত্বে অত্র বিভাগ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ তাঁর যোগ্যতা বৃদ্ধি করে দিন। আমিন।

লেখক: সাবেক ছাত্র। আল-হাদীস বিভাগ। ইবি, কুষ্টিয়া।


শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here