Saturday, January 16, 2021

মাদরাসার অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন



 
   সিলেট থেকে নূর বিন আফতার:

গত ১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার বেলা ১২ ঘটিকায় সিলেট প্রেস ক্লাবে বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নে অবস্থিত এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার (১৩০২১০) অধ্যক্ষ আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইনের দুর্নীতি, উন্নয়ন বিরোধী কাজ, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থাপনা, এলাকার জনগণকে হয়রানী, মাদরাসার শিক্ষকদের হয়রানীসহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে মামলা হামলা দিয়ে নাজেহাল ও বিগত ৩০ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে মিথ্যা, বানোয়াট, তথ্য প্রমাণহীন ও মানহানীকর উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার প্রতিবাদে এবং দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা পরিবারের সদস্য ফারুক আহমদ। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াহিদ আলী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ২ নং খাজাঞ্চী ইউনিয়ন সভাপতি মো. আব্দুন নুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মখদ্দুছ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলকাছ আলী, হাজী বাদশাহ মিয়া, পীর শামছুল ইসলাম তোতা মিয়া, জবেদ আলী, আলহাজ্ব আবুল লেইছ, আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন, মো. তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, নুর উদ্দিন, তালিব উদ্দিন, আকলিছ হোসেন, আছকির আলী, আমির উদ্দিন মেম্বার, আব্দুস সালাম, মনু মিয়া, মুজাহিদ আলী, মঈন উদ্দিন, আজিজুর রহমান, শাহ রফিকুল ইসলাম রাসেল, কমর উদ্দিন, মাহমুদুর রহমান, মাসুদ আহমদ, আরিফ আহমদ রাজু, এহসানুর রহমান, নূর উদ্দিন, জমির উদ্দিন, আব্দুল আমিন, ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ফজলু মিয়া, কবির আহমদ, রাশেদ আহমদ, আশরাফ আহমদ, নজির আহমদ প্রমুখ। 

লাইভ সম্প্রচার বাংলা টাইম ও টন


লাইভ সম্প্রচার হলি স্পিচ

সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠকৃত অভিযোগপত্রটি হুবহু তোলে ধরা হলো-

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ

আমরা বিশ্বনাথ উপজেলার ২ নং খাজাঞ্চী ইউনিয়নের অধিবাসীগণ। আজকের সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাচ্ছি। বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নে অবস্থিত এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার (ইন নং- ১৩০২১০) অধ্যক্ষ আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইনের দুর্নীতি, উন্নয়ন বিরোধী কাজ, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থাপনা, এলাকার জনগণকে হয়রানী, মাদরাসার শিক্ষকদের হয়রানীসহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে মামলা হামলা দিয়ে নাজেহাল ও বিগত ৩০ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে মিথ্যা, বানোয়াট, তথ্য প্রমাণহীন ও মানহানীকর উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার প্রতিবাদে এবং দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।

 প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ

এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ১৯৭০ ইং সালে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মরহুম এটিএম ওলিউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মরহুম এটিএম ওলিউর রহমান এর সার্বিক তত্বাবধানে অত্যান্ত সুনামের সাথে মাদরাসাটি ২০০৪ সালে আলিম পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০১৪ সালে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা এটিএম ওলিউর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি  তারই নিকটাত্মীয় তেলিকোনা গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইনকে অধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। তিনি আশাবাদী ছিলেন আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইন মাদরাসাটিকে সুনামের সাথে পরিচালনা করবেন। কিন্তু কে জানত, এই আবু তাহির-ই এখন তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। রক্ষক যে ভক্ষক হয়ে যাবে জীবদ্দশায় এমনটি কখনও চিন্তা করতে পারেননি সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর   আবু তাহির মনে করেন মাদরাসা নিয়ে কথা বলার এখন আর কেউ নেই। তাই তার ইচ্ছা মতো মাদরাসা পরিচালনা করতে শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও নানারূপ জাল জালিয়াতি, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে মাদরাসার অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব শুরু করেন। আবু তাহিরের এমন স্বেচ্ছাচারিতা, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠাতার সহধর্মীনি ও গভর্নিংবডির সাবেক সভাপতি বেগম রাবেয়া আক্তার আপত্তি জানালে চতুর অধ্যক্ষ ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন। মাদরাসার উন্নয়ন কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্থ করতে সুকৌশলে ও অতি গোপনে এলাকাবাসীর কাছ থেকে চিঠি বিতরণের প্রাপ্তি রেজিস্ট্রারি খাতায় গণস্বাক্ষর নেয়ার অপচেষ্টা চালান। একইভাবে মাদরাসা স্থানান্তরে এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত রয়েছে মর্মে বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে একটি ডিও লেটার নেন। পরবর্তীতিতে এম পি মহুদয় বিষয়টি জানতে পেরে ষড়যন্ত্রমূলক ডিও লেটারটি প্রত্যাহার করে নেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পাশাপাশি সভাকে অবহিত করা হয়- অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার কারণে তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসায় উশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।  অধ্যক্ষের এমন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

সাংবাদিক বন্ধুগণ

ইতোমধ্যে মাদরাসার নামে বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের রাজস্ব উন্নয়নের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ তলা ভীত বিশিষ্ট ১তলা একাডেমিক ভবন বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সুচতুর অধ্যক্ষ মাদরাসার ক্যাম্পাসে ভবন নির্মাণে বাধাঁ হয়ে দাড়ান। তিনি ভবন নির্মাণ বাঁধগ্রস্থ করতে জেলা শিক্ষা অফিসকে ভয়া তথ্য দিয়ে বলেন, মাদরাসার ক্যম্পাসে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই ভবন নির্মাণ করা যাবে না। বিষয়টি মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতার ছোট ভাই মুখলিছুর রহমান জানতে পেরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এবং বর্তমান সংসদ সদস্য জনাব মোকাব্বির খানের উপস্থিতিতে মাদরাসার জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করে মাদরাসার নামে ৩৪ শতক জমি প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রিমূলে দান করা হয়। পরবর্তীতে গত ৯/১২/২০১৯ ইং তারিখে এলাকাবাসী ও গভর্নিংবডির স্বর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রেজুলেশনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব মোকাব্বির খান। চতুর ও কু-কৌশলী অধ্যক্ষ যখন বুঝতে পারেন ভবন নির্মাণ বাঁধাগ্রস্থ করতে তার সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তখন মাদরাসার সকল নথিপত্র দিয়ে তার ভগ্নিপতি একজন সাধারণ দিনমজুরকে বাদী করে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মাননীয় সহকারী জজ আদালত বিশ্বনাথ সিলেট এ একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করান। যার নং-২৪/২০২০। কিন্তু বিগত ২৪/৯/২০২০ ইং তারিখে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পর থেকে মাদরাসায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট করে একক আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন। নিজের লোক দিয়ে গঠন করেন গভর্নিংবডি। শুধুমাত্র নিয়মানুযায়ী প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রীকে সভাপতি রাখলেও অন্যান্য সদস্য অধ্যক্ষের আজ্ঞাবহ হওয়ায় তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। মাদরাসার আয়-ব্যায়ের কোন হিসাব তিনি গভর্নিংবডির নিকট প্রদান করেননি। তার এসব দুর্নীতি ও অর্থআত্মসাতের বিষয়ে মাদরাসার আজীবন দাতা সদস্য প্রবাসী জনাব আব্দুস সবুর গত ১২/৩/২০১৯ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক মহুদয় নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রায় ৯ মাস পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তপূর্বক রিপোর্ট দাখিলের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গত ৫/১/২০২০ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক মহুদয়ের নিকট তার প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদনে আবু তাহির মো. হোসাইনের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সত্য বলিয়া প্রমানিত হয়। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যক্ষ তার কিছু আত্মীয়কে দিয়ে মাদরাসার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে জামায়াত-শিবিরের ধ্বংসের হাত থেকে মাদরাসা রক্ষার আবেদনশিরোনামে শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করান। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব শামীম মুসা বিগত ২৬/৭/২০২০ ইং তারিখে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসাটিকে জামায়াত-শিবিরের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জনৈক সুলতান আলীসহ ১০ জনের স্বাক্ষরিত দরখাস্তের প্রেক্ষিতে একাধিকবার গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করা হয়। তদন্তকালে উক্ত মাদরাসার বিষয়ে আনা সার্বিক অভিযোগ স্থানীয় গন্যমান্য লোকদের জিজ্ঞাসাবাদে মাদরাসায় জামায়াত-শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নাই। বিশ্বনাথ থানার সম্মানিত অফিসার ইনচার্জের প্রতিবেদনে আবু তাহির মো. হোসাইন কর্তৃক মাদরাসাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের চিত্রও উঠে এসেছে, যার স্মারক নং- ১৭৬২। অপরদিকে আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইন বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠাতার ছোট ভাই মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মুখলিছুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। বিশ্বনাথ থানার সাব ইনস্পেক্টর মুহাম্মদ সাঈদুল ইসলাম গত ২৪/০৪/২০২০ ইং তারিখে সিলেটের মাননীয় বিজ্ঞ সিনিয়র মাজেস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের নিকট আবু তাহির মো. হোসাইন কর্তৃক আনীত অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যার সূত্র বিশ্বনাথ থানার সাধারণ ডায়েরী নং- ৫১৮, তারিখ-১০/১১/২০২০। উক্ত প্রতিবেদনে আবু তাহির মো. হোসাইন কর্তৃক আনিত অভিযোগ সত্য নয় মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অর্থআত্মসাতের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) নির্বাচনী এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান গত ২৭/১০/২০২০ ইং তারিখে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর লিখিত সুপারিশ করেন। যার ডকেট নং- ৩৭২, তারিখ- ৫/১১/২০২০ ইং।

বিশ্বনাথ উপজেলার তেলিকোনা গ্রামের এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইন দীর্ঘদিন থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে মাদরাসার আয়-ব্যায়ের হিসাব না দিয়ে অর্থআত্মসাৎ করে চলছেন। তিনি এমপিওভুক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষ হয়েও খাজাঞ্চী ইউনিয়নের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যা বিধি সম্মত নয় বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের তদন্তে প্রমাণিত। এতে মাদরাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। তিনি মাদরাসার শিক্ষক ও মসাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে হয়রানী করার জন্য উক্ত মাদরাসার সাথে জামায়াত-শিবিরের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করলে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি। তার অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় মাদরাসা শিক্ষক, প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে করে অধ্যক্ষ আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইনকে অপসারণ না করলে যে কোন সময় সংঘাত সৃষ্টি হয়ে এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

মাদরাসার বর্তমান গভর্নিংবডির সভাপতি ২০২০ সালের ১ ফেব্রæয়ারী মৃত্যুবরণ করলে শূন্যপদে অধ্যক্ষ তার নিজের আজ্ঞাবহ লোককে মনোনিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে সভাপতির প্যানেল জমা দেন। বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পেরে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে প্রেরিত প্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কারণ দর্শানোর জন্য অধ্যক্ষকে চিঠি দেয় এবং বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ২০/০৯/২০২০ ইং তারিখে বিশ্বনাথ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের অর্থআত্মসাৎ, দুর্নীতি ও সভাপতি মনোনয়নে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যার স্মারক নং- টঝঊঙ/বিশ্ব/সিল/৩০-২০২০/৭৯৪।

অধ্যক্ষের লাগামহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের নানামুখী হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শনকে উপেক্ষা করে এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার ফলে মাদরাসার একাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বিগত ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে কথিত এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যক্ষ মাদারাসার কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুতি ও বিভিন্ন সুযোগ প্রদানের মিথ্যা ও অন্যায় আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিত করে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক স্টাফের মধ্যে ধিদ্বাবিভক্তি ও গ্রুপিং তৈরী করার মাধ্যমে মাদরাসার সুষ্টু একাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়া এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব মহোদয় বরাবরে এলাকাবাসী কর্তৃক অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে দরখাস্ত দাখিল করায় মিথ্য, বানোয়াট ও তথ্য প্রমাণহীন বক্তব্য দিয়ে কথিত এলাকাবাসীর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা, যাতে করে চলমান তদন্তাধিন অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর ও এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করার নামান্তর। উল্লেখ করা আবশ্যক যে, অধ্যক্ষ আবু তাহির মো. হোসাইন সুদীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু আর্শ্চয্যের বিষয় হলো বিগত ২৫ বছরের মধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ কিংবা কোন বক্তব্য উঠেনাই। দুঃখজনক হলেও সত্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় নিজেকে বাঁচানোর জন্য মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও প্রতিষ্ঠাতার ছোট ভাই, মদরাসার সহকারী অধ্যাপক মুখলিছুর রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে এবং এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেরকৃত ও প্রমাণিত দুর্নীতি ঢাকতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে বিগত ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। আমরা তার এহেন নেক্কারজন ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি আপনাদের মাধ্যমে।  


 জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দ     

আপনারা সমাজের দর্পণ। আপনাদের লেখনির মাধ্যমে একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একজন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে। এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠাতার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে নানাভাবে হয়রানী, হুমকি, ধমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন প্রতিষ্ঠাতার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। দিন দিন মাদরাসাটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাতকারী আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইনকে অধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, সিলেটের মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের মাননীয় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিনীত

এলাকাবাসীর পক্ষে

 (ফারুক আহমদ)



শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios:

You can comment here